ঢাবি শিক্ষককে দেখে নেওয়ার হুমকি,ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতির

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় স্যার পি জে হার্টস ইন্টারন্যাশনাল হলের এক আবাসিক শিক্ষককে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোতাহার হোসেন প্রিন্সের বিরুদ্ধে। তিনি পি জে হার্টস হলের আবাসিক শিক্ষক জহিরুল হক মজুমদারকে বেয়াদব বলে দেখে নেওয়ার হুমকি দিয়েছেন। তবে বিষয়টি অস্বীকার করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্রলীগ নেতা প্রিন্স।

ভুক্তভোগী ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোতাহার হোসেন প্রিন্স ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ইন্টারন্যাশনাল হলে জুম্মার নামাযের পড়ে শিক্ষকদের সংরক্ষিত বসার জায়গায় বসে ছিলেন। এ সময় হলের আবাসিক শিক্ষক ও ত্রিপল-ই বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক জহিরুল হক মজুমদার প্রথমে তার পরিচয় জানতে চান এবং শিক্ষকদের বসার জায়গায় প্রিন্সকে বসতে নিষেধ করেন। বসা নিয়ে দুজনের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে জহুরুল হক মজুমদার মোতাহার হোসেনকে বেয়াদব বলেন। তখন রেগে গিয়ে মোতাহার হোসেন প্রিন্স জরুরুল হক মজুমদারকেও বেয়াদব, শিক্ষক নামে কলঙ্ক ও অকথ্য ভাষায় গালি দিতে থাকেন। সর্বশেষ তাকে দেখে নেওয়ার হুমকি দেন।

এ বিষয়ে ভুক্তভোগী শিক্ষক জহিরুল হক মজুমদার বলেন, আমি মোতাহার হোসেন প্রিন্সকে চিনি না। আমি বিনয়ের সাথে তাকে জিজ্ঞেস করলাম আপনি কে। তখন সে বলল, সে মোতাহার হোসেন প্রিন্স। আমি বললাম এটা তো আসলে ছাত্রদের বসার জায়গা নয়। নামাজ পড়েছেন চলে যান। তখন সে প্রশ্ন করলো, ওই রুমটা কাদের। আমি বললাম ওইখানে ছাত্রদের গেস্ট আসলে বসে। তবে বাইরের ছাত্ররা এখানে বসে না। সাথে সাথে সে দাঁড়িয়ে বলল, আমি অনেক শিক্ষকের সাথে এখানে বসেছি। তখন আমি বললাম, এখান থেকে চলে যেতে হবে। তখনো সে দাঁড়িয়ে ছিল এবং আমার দিকে তাকিয়ে ছিল।

তিনি আরও বলেন, এসময় আমি তাকে বললাম, বেয়াদবি না করে এখান থেকে চলে যান। তখন সে পাল্টা গালি দিয়ে বলল, আপনি বেয়াদব, আপনি শিক্ষক নামের কলঙ্ক। আমি তাকে বললাম যে সরি, আমি তোমাকে বেয়াদব বলেছি, তুমিও পাল্টা আমাকে বেয়াদব বলেছ। তবে এখন তুমি এখান থেকে যাও। তখন সে এখান থেকে চলে গেল এবং যেতে যেতে অকথ্য ভাষায় গালি দিতে দিতে গেল।

এসময় প্রিন্স হুমকি দেয়ার অভিযোগ করে ওই শিক্ষক বলেন, সে আমাকে দেখে নেওয়ার হুমকি দিয়েছে। ঘটনার বিষয়ে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর সোহেল আমাকে ফোন দিয়েছিলেন বলে জানান এবং এ বিষয়ে তিনি বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টর অধ্যাপক গোলাম রব্বানীকে অবহিত করবেন বলেও জানান।

অভিযোগের বিষয়ে ছাত্রলীগের সাবেক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাধারণ সম্পাদক মোতাহার হোসেন প্রিন্স দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, আমার সামনে এক স্টুডেন্টের সাথে এক স্যারের কাটাকাটি হয়েছে। সে শিক্ষকদের বসার জায়গায় বসেছিল। পরে এটা আমি মীমাংসা করে দিয়েছি। তিনি আরো বলেন, আমার সাথে কোন ঝামেলা হয় নাই। বেয়াদবের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি এই অভিযোগ ভিত্তিহীন বলেন।

এ বিষয়ে জানতে ইন্টারন্যাশনাল হলের প্রাধ্যক্ষ ড. মো. মহিউদ্দিন ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক গোলাম রাব্বানীকে একাধিক বার ফোন দিলেও তারা রিসিভ করেননি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: